Porasuna | Blog community for Educational Content

JobsNews24

The Most Popular Job Site in Bangladesh

বাংলাদেশের ইতিহাস : মুসলিম শাসন

Category: GK Bangladesh Posting Date: 2016-11-29


১. মুহম্মদ বিন কাসিম ৭১২ সালে সিন্ধু জয় করেন। এ সময় সিন্ধুর রাজা ছিলেন দাহির।তিনি মুলতান ও অধিকার করেন।
২. সুলতান মাহমুদ (৯৯৭-১০৩০) গজনীর সুলতান ছিলেন। তিনি ১০০০ সালে প্রথম ভারতবর্ষ অভিযান চালান। তিনি সর্বমোট ১৭ বার ভারত অভিযান চালান এবং প্রত্যেক বার জয়ী হলেও পাঞ্জাব ব্যতীত কোনটি গজনী রাজ্যভুক্ত করেননি।শাহনামা রচিত ফেরদৌস তার সমসাময়িক। আল বেরুনী সুলতান মাহমুদের দরবারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। ভারতের উপর লিখিত আল বেরুনীর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কিতাবুল হিন্দ’।
৩. তুর্কি আমলে লক্ষ্মণাবতী গৌড় নামে পরিচিত ছিল।
৪. মুহম্মদ ঘুরী ১১৭৩ সালে নিজ ভ্রাতা গিয়াসউদ্দিনের অধীনে গজনীর শাসনভার গ্রহণ করেন।এ সময় সুলতান মাহমুদের গজনী বংশ গজনী হতে বিতাড়িত হয়ে পাঞ্জাবে পলায়ন করেন। মুহম্মদ ঘুরী ও পৃথ্বীরাজ চৌহানের মধ্যে তরাইনের যুদ্ধ হয়েছিল। প্রথম যুদ্ধে চৌহান জয়ী হন আর দ্বিতীয় যুদ্ধে (১১৯২ সালে) ঘুরী। ফলে ভারত সাম্রাজ্য তুর্কীদের অধীনে আসে (সর্বপ্রথম)। মুহম্মদ ঘুরী তার অধিকৃত এলাকা সমূহ তার সেনাপতি কুতুব উদ্দিন আইবেককে শাসনভার দিয়ে যান। কুতুবউদ্দিন পরে মীরাট, দিল্লী অধিকার করেন।১১৯৪ সালে ঘুরী পুনরায় ভারতবর্ষে আসেন এবং কনৌজের জয়চাঁদকে পরাজিত করে কণৌজ ও বারাণসী হস্তগত করেন।এরপর পুনরায় চলে যান।১২০৩ সালে গিয়াস উদ্দিন মারা গেলে তিনি গজনী, ঘুর ও দিল্লীর অবিসংবাদিত সুলতান হলেন। তিনি ১২০৬ সালে গুপ্ত ঘাতকের হাতে প্রাণত্যাগ করেন। আজমীরের খাজা মুঈন উদ্দিন চিশতীয়া (তরিকাভুক্ত ছিলেন)১১৯২ সালে ভারতে আসেন।
৫. কুতুবউদ্দিন যখন উত্তর ভারত অধিগ্রহণে ব্যস্ত সেই সময় বখতিয়ার খলজি পূর্ব-ভারতে প্রভূত্ব বিস্তারে মনোনিবেশ করলেন।প্রথমে তিনি বিহার জয় করেন।এরপর লক্ষণ সেনের নদীয়ার প্রাসাদ আক্রমণ করলে লক্ষণসেন পলায়ন করে ঢাকা জেলার সোনারগাঁওয়ের নিকটবর্তী বিক্রমপুরে আশ্রয় নিলেন।বখতিয়ার খলজি বঙ্গেও রাজধানী লখনৌতি (লক্ষণাবতী) বা গৌড়ে স্থাপন করেন। বঙ্গ ও বিহার জয় করে তিনি তিব্বত আক্রমণে মনস্থ করলেন। কিন্তু ১২০৫ সালে বর্তমান দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট মহাকুমায় অবস্থিত দেবকোটে প্রাণত্যাগ করেন।
৬. ১২০৬ সালে ঘুরীর মৃত্যু হলে তার কোন পুত্র না থাকায় ভাতুষ্পুত্র গিয়াসউদ্দিন মুহম্মদ ঘুর সাম্রাজ্যের সুলতান হন। তিনি কুতুবউদ্দিকে দাসত্ব (ঘুরীর দাস ছিলেন) হতে মুক্তি দিলেন এবং দিল্লীর সুলতান উপাধি দেন।
৭. কুতুবউদ্দিন ১২০৬ থেকে ১২১০(মৃত্যু) পর্যন্ত সুলতান ছিলেন। তার পিতৃস্থান তুর্কিস্থান।
৮. কুতুব উদ্দিনের মৃত্যুর পর অভিজাতরা আরাম শাহকে (১২১০-১২১১) সিংহাসনে বসান। কিন্তু অল্পকালের মধ্যে তিনি অপ্রিয় হয়ে উঠেন। তাই অভিজাতরা কুতুবউদ্দিনের জামাতা ইলতুৎমিশকে (১২১১-১২৩৬) সিংহাসনে বসার আহ্বান জানান। তিনি আরাম শাহকে পরাজিত করে সিংহাসন দখল করেন। তিনিও এক সময় দাস ছিলেন।
৯. ১২২১ সালে মোঙ্গলীয় চেঙ্গিস খাঁ ভারতবর্ষ আক্রমন করেন কিন্তু ভারতের প্রচন্ড তাপ মোঙ্গলদের অসহ্য হওয়ায় সিন্ধু ও পশ্চিম পাঞ্জাব লুট করে স্বদেশে ফিরে যান। ফলে মোঙ্গল আক্রমণ হতে ইলতুৎমিশ রক্ষা পেলেন।
১০. সুলতান কুতুবউদ্দিনের মৃত্যুর পর দিল্লী সাম্রাজ্যের বিশৃংখলার সুযোগে লখনৌতির শাসনকর্তা আলীমর্দান খলজী স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ১২১১ সালে তিনি নিহত হলে হুসামউদ্দিন আইওয়াজ খলজী ‘সুলতান গিয়াসউদ্দিন’ উপাধি গ্রহণ করে লখনৌতির সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি বিহার, জাজনগর (উড়িষ্যা), ত্রিহুত (মিথিলা), বঙ্গ (মধ্য বঙ্গ) ও কামরূপ হতে কর প্রদানের প্রতিশ্রুতি লাভ করেন। তিনি আব্বাসীয় খলিফা আল নাসির উদ্দিন ইলাহীর নিকট হতে স্বীকৃতি লাভ করেন। ১২২৫ সালে ইলতুৎমিশ গিয়াসউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পর গিয়াস উদ্দিন পুনরায় বিদ্রোহ করলেন। এইবার ইলতুৎমিশের পুত্র নাসির উদ্দিন মাহমুদ বঙ্গ আক্রমণ করে অধিকার করে নিজেই শাসনকর্তা হলেন। বঙ্গ পুনরায় দিল্লীর অধীন হল।
১১. ইলতুৎমিশ তার কন্যা রাজিয়াকে উত্তরাধিকার মনোনিত করেন কিন্তু অভিজাতরা তারপুত্র রুকুনউদ্দিন ফিরুজকে সিংহাসনে বসান। শীঘ্রই তিনি অপদার্থ ও অকমর্ণ্য বলে প্রমানিত হলেন। পরে রাজিয়া (১২৩৬-৪০) তাকে সিংহাসনচ্যুত করে রাজ্যভার গ্রহণ করলেন।
১২. ইলতুৎমিশের পুত্র বাহরাম শাহ (১২৪০-৪২) রাজিয়াকে পরাজিত করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তার দুর্বলতার জন্য অভিজাতরা তাকে হত্যা করে ইলতুৎমিশের পৌত্র মাসুদকে বসান। কিন্তু তিনি আরো অপদার্থ। তাই অভিজাতরা তাকে সিংহাসনচ্যুত করে ইলতুৎমিশের পুত্র নাসির উদ্দিন মাহমুদকে সিংহাসন দান করেন।
১৩. নাসির উদ্দিন মাহমুদ (১২৪২-১২৬৬) ইলতুৎমিশের তুর্কী কৃতদাস গিয়াস উদ্দিন বলবনের উপর রাজ্যের সমস্তভার অর্পণকরেন (প্রধানমন্ত্রী)।তার কোন চাকর চিল না। তার স্ত্রী নিজ হাতে রান্না করতেন। তিনি টুপি সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার আমলে চেঙ্গিস খানের পৌত্র হালাকু খান দূত হিসাবে দিল্লীর রাজসভায় আসেন এবং অভ্যথর্নায় তিনি অভিভূত হন।
১৪. নাসির উদ্দিনের কোন পুত্র সন্তান ছিল না। তিনি তার কন্যাকে বলবানের নিকট বিবাহ দেন। নাসির উদ্দিনের মৃত্যুর পর বলবন (১২৬৬-৮৭) সিংহাসনে আরোহণ করেন। বলবনের বৈদেশিক নীতির কারণেই ১২৭৯ সালে মোঙ্গলরা পরাজিত হয়। ফলে ভারতকে ইরাক ও বাগদাদের ভাগ্যবরণ করতে হয়নি (হালাকু খা কর্তৃক ধ্বংস হয়)।তৈমুরের নেতৃত্বে মোঙ্গলরা ১২৯৫ সালে (নাকি ১২৮৫সাল) পুনরায় পাঞ্জাব আক্রমণ করে।তাদেরকে তার পুত্র মুহম্মদ প্রতিহত করেন কিন্তু মুহম্মদ নিজে নিহত হন।
১৫. ১২৭৯ সালে বঙ্গের শাসনকর্তা তুঘ্রিল খান বিদ্রোহ করলে বলবন প্রথম দুবার বাহিনী প্রেরিত করলে পরাজিত হয়। ফলে বলবন নিজে এবং পুত্র বুখরা খানকে সঙ্গে নিয়ে তুঘ্রিলকে পরাজিত ও হত্যা করেন এবং বুখরা খানকে বঙ্গের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
১৬. কায়কোবাদ (১২৮৭-৮৯) বলবনের মৃত্যুর পর বুখরা খান দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি করলে তার পুত্র কায়কোবাদকে অভিজাতরা সিংহাসনে বসান।
১৭. দিল্লীর রাজ সভায় তখন তুর্কী ও খলজী এই দু’দলে বিভক্ত হয়ে পড়ল। মালিক ফিরুয খলজী দিন দিন শক্তিশালী হয়ে উঠলে এবং সুলতান কায়কোবাদ সুস্থ হবার আসা নাই দেখে তার তিন বৎসরের পুত্রকে কাইয়ুমকে অভিজাতরা ১২৮৯ সালে সিংহাসনে বসান। কিন্তু মালিক ফিরূজ খলজি তুর্কী প্রধানদের সহায়তায় রাজধানীতে প্রবেশ করে শিশুরাজা অবরোধ করলেন ও ১২৯০ সালে নিজেকে দিল্লীর সুলতান বলে ঘোষনা করলেন। এইভাবে তুর্কী সাম্রার্জ্যর প্রাথমিক আমলের শাসনের অবসান ঘটল।

খলজী বংশ (১২৯০-১৩২০)
১৮. জালাল উদ্দিন খলজী (১২৯০-৯৬)
১৯. আলাউদ্দিন খলজি (১২৯৬-১৩১৬): তিনি জালাল উদ্দিনের জামাতা। জালাল উদ্দিন তাকে অভিনন্দন জানাতে আসলে আলাউদ্দিন তাকে হত্যা করেন। অবশ্য অভিজাতরা তাকে নানা কারণে প্ররোচিত করেছিল। (মালিক মোঃ জায়সীর কাব্য গ্রন্থ পদ্মাবতীর পদ্মীনী)
২০. আলা উদ্দিনের পর তার শিশু পুত্র শিহাব উদ্দিনকে সিংহাসনে বসেন। তার প্রতিনিধি হিসাবে ভ্রাতা কুতুবউদ্দিন মুবারক শাহ(১৩১৬-২০) শাসন করে। অল্প কালের মধ্যে তিনি শিশু ভ্রাতা শিহাব উদ্দিনকে অন্ধ ও সিংহাসনচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করেন।
২১. মুবারককে খসরু খান (ধর্মান্তরিত) হত্যা করে ১৩২০ সালে সিংহাসন দখল করেন। কিন্তু তার কালে বিক্ষুদ্ধ হয় পাঞ্জাবের শাসনকর্তা গাজী মালিক তাকে পরাজিত করে ১৩২০ সালেই ক্ষমতা দখল করেন এবং খলজী বংশের পতন হয়।

তুঘলক বংশ
২২. গিয়াস উদ্দিন তুঘলক (১৩২০-২৫): খলজী বংশের অবসানে ১৩২০ সালে গাজী মালিক গিয়াস উদ্দিন উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। সিন্ধু ও তুর্কীস্থানের পাবর্ত্য অঞ্চলে যে সমস্ত তুর্কীরা বসবাস করত তিনি ছিলেন সেই দলের একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তি।তিনি ঘোড়ার ডাকের প্রচলন করেন।
২৩. বলবানের পুত্র বুঘরা খান এবং পরে তার পুত্র রুকুনউদ্দিন কাইকায়ুস দিল্লীর আধিপত্য স্বীকার করলেও প্রকৃতভাবে তারা স্বাধীনভাবে বঙ্গদেশ শাসন করেন। এভাবে ১৩২২ সালে পর্যন্ত শামসউদ্দিন ফিরোজশাহ বঙ্গের স্বাধীনভাবে রাজত্ব করে। তার মৃত্যুর পর তার পুত্র গিয়াসউদ্দিন বাহাদুর শাহ ও নাসির উদ্দিন ইব্রাহিম এর মধ্যে বিবাদ আরম্ভ হয়। ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ১৩২৪ সালে ভারতে আসেন এবং জয় করে ইব্রাহিমকে শাসনকর্তা নিযুক্ত করে চলে যান।
২৪. মুহম্মদ বিন তুঘলক (১৩২৫-৫১): গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের মৃত্যুর পর তার পুত্র জুনা খান (উলুঘ খান) মুহম্মদ বিন তুঘলক নাম ধারণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। মুহম্মদ বিন তুঘলক ভারতের কৃষি উন্নতির জন্য ‘অমিয় কোহী’ নামে কৃষি বিভাগ তৈরি করেন। তিনি ১৩২৭-২৮ সালে দেবগিরিতে (দৌলতাবাদ) ২য় রাজধানী স্থাপন করেন (দক্ষিণাত্যে, দিল্লী হতে ৭০০ মাইল দূরে)। তিনি তাম্রমুদ্রার প্রচলন করেন। তার আমলে তাঞ্জানিয়ার পর্যটক ইবনে বতুতা (জন্ম ১৩০৪ সালে) ১৩৩৩ সালে ভারতে আসেন এবং সুলতান কর্তৃক দিল্লীর প্রধান কাজী নিযুক্ত হন। ৮ বছর পর সম্রাটের প্রীতি হারিয়ে বন্দী হন এবং অবশ্য পরে মুক্তি পান।
২৫. দিল্লি হতে রাজধানী দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন মুহাম্মদ বিন তুঘলক ।
২৬. ১৩৩৮ সালে বঙ্গের ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ দিল্লীর সুলতানের অধীনতা অস্বীকার করেন এবং স্বাধীন নৃপতি হিসাবে রাজত্ব করতে লাগলেন।
২৭. ফিরোজ শাহ তুঘলক (১৩৫১-১৩৮৮): মুহম্মদ বিন তুঘলক মৃত্যুর পর তার কোন সন্তান না থাকায় অভিজাতরা সুলতানের পিতৃব্য ফিরোজকে সিংহাসনে বসান। ১৩৫৩ সালে তিনি বঙ্গের শাসনকর্তা শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহের বিরুদ্ধে অভিযান চালান কিন্তু অধিকার না করে দিল্লিতে প্রত্যাবর্তন করেন।
২৮. ১৩৫৭ সালে ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর তার পুত্র সিকান্দর শাহ বঙ্গের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
২৯. ফিরোজ শাহের মৃত্যুর পর তার পৌত্র দ্বিতীয় গিয়াস উদ্দিন তুঘলক সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি দুর্বল ছিলেন ফলে তার পিতৃব্যপুত্র আবু বকর ১৩৮৮ সালে তাকে নিহত করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। কিন্তু নগর কোটের শাসনকর্তা নাসির উদ্দিন মুহম্মদ তার নিকট থেকে সিংহাসন কেড়ে নেন। তার মৃত্যুর পর তার পুত্র হুমায়ুন সিংহাসনে আরোহণ করেন। অল্পকালের মধ্যে তার মৃত্যু হলে তার ভ্রাতা নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহ সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি ছিলেন তুঘলক বংশের শেষ সুলতান।
৩০. তৈমুরের আক্রমণ(১৩৯৮-৯৯): তৈমুর ছিলেন তুর্কী-চাগতাই বংশীয় তুরঘাইয়ের পুত্র। তিনি সমরকান্দের আমির ছিলেন। তিনি পারস্য, আফগানিস্থান, মেসোপটেমিয়া এবং ১৩৯৯ সালে দিল্লী অধিকার করে প্রচুর লুণ্ঠন ও হত্যা করেন। তৈমুর ভারত ত্যাগ করলে মাহমুদ শাহ দিল্লীতে ফিরে আসেন এবং ১৪১৩ সালে মৃত্যুমুখে পতিত হন। তৈমুরের প্রতিনিধি খিজির খান সিংহাসনাধীন তুঘলক সুলতানকে পরাজিত করে স্বীয় শাসন ও বংশীয় রাজত্ব (সৈয়দ বংশ) কায়েম করেন ১৪১৩ সালে।

সৈয়দ বংশ (১৪১৪-৫১)
৩১. মাহমুদ শাহের মৃত্যুও পর অভিজাতরা দৌলত খান লোদীকে সিংহাসনে বসান। ১৪১৪ সালে খিজির খান তাকে পরাজিত করে সিংহাসনে বসেন। খিজির খান ছিলেন আরব গোষ্ঠীর সন্তান। তিনি নিজেকে পয়গম্বরের বংশধর বলে দাবি করতেন তাই তার প্রতিষ্ঠিত বংশ সৈয়দ বংশ।১৪২১ সালে খিজির খানের মৃত্যুও পর তার পুত্র মোবারক শাহ দিল্লীর সিংহাসনে বসেন।
৩২. ১৪৩৪ সালে মোবারক শাহ এক অভিজাত কর্তৃক নিহত হলে তার ভ্রতুষ্পুত্র মুহম্মদ শাহ সিংহাসনে আরোহণ করেন।
৩৩. মুহম্ম শাহ ১১ বছর শাসন করেন। এরপর তার পুত্র আলাউদ্দিন আলম শাহ সিংহাসনে বসেন।১৪৫১ সালে তিনি স্বেচ্ছায় বাহলুল লোদীকে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। সৈয়দ বংশের অবসানে লোদী বংশ প্রতিষ্ঠিত হয়।

লোদী বংশ (১৪৫১-১৫২৬)
৩৪. লোদী সুলতানগণ প্রকৃত পক্ষে দিল্লীর সিংহাসনে একমাত্র পাঠান বংশের লোক ছিলেন। দিল্লীর অন্যান্য সুলতান খাঁটি অথবা মিশ্র তুর্কী ছিলেন। বাহলুল লোদী ১৪৮৯ সালে মারা গেলে তার পুত্র নিজাম খান (১৪৮৯-১৫১৭) সিকান্দার লোদী নাম গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। সিকান্দার লোদীর মৃত্যুর পর তার পুত্র ইব্রাহিম লোদী সিংহাসনে আরোহণ করেন ১৫১৭ সালে।
৩৫. ১৫২৬ সালে কাবুলের আমির বাবর ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে দিল্লীর সিংহাসনে বসেন। কিন্তু অন্যান্য স্বাধীন রাজ্যের উত্থান হয়।

বঙ্গদেশ (১২০০-১৩৩৮)
৩৬. ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজী’র আগমন (১২০৪ সালে) না ঘটলে বাংলায় মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা সম্ভব হত না। তিনি দিনাজপুরের দেবীকোটে রাজধানী স্থাপন করেন।

বঙ্গদেশ (১৩৩৮-১৫৩৮)
৩৭. ১২১৯ সালে সুলতান গিয়াস উদ্দিন ইয়াজ দেবকোট হতে রাজধানী গৌড়ে স্থানান্তরিত করেন।
৩৮. মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করে শাসন কার্যের সুবিধার জন্য বঙ্গদেশকে তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত করেন। কাদের খানকে বরেন্দ্রভূমিতে (রাজধানী গৌড়), মুহম্মদ তুঘলকের ভ্রাতা বাহরাম খান বা তাতার খানকে পূর্ববঙ্গ (রাজধানী সোনারগাঁও বা সুবর্ণগ্রাম) এবং ইয়াজ উদ্দিন আযম-উল মূলককে রাঢ়ভূমিতে (রাজধানী সাতগাঁও বা সপ্তগ্রাম)।
৩৯. উচ্চ বিলাসী বাহাদুর শাহ স্বাধীনতা ঘোষনা করলে বাহরাম খান তাকে পরাজিত ও হত্যা করে বঙ্গের শাসনকর্তা হলেন। ১৩৩৮ সালে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর তার দেহরক্ষী ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ পূর্ববঙ্গের স্বাধীন নরপতিরূপে সিংহাসনে আরোহণ করেন। ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ এর সময়ে ইবনে বতুতা এদেশে আসেন। ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান।
৪০. ফখরউদ্দিনকে পরাজিত ও হত্যা করে আলাউদ্দিন আলী শাহ (আলী মুবারক) শাসক হন। তিনি ১৭ বছর শাসক ছিলেন।

ইলিয়াস শাহী বংশের অধীনে বঙ্গদেশ (১৩৪২-১৪১৪):
৪১. ১৩৪২ সালে হাজী ইলিয়াস শাহ আলী মুবারককে হত্যা করে বঙ্গের (লাখনৌতির) সিংহাসনে আরোহণ করেন শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ নাম ধারণ করে। ঐতিহাসিকদের মতে ইলিয়াস শাহের পূর্ব পুরুষগণ পূর্ব ইরানের অধিবাসী ছিলেন।সিংহাসনে আরোহণের কিছুকালের মধ্যে নেপাল, ত্রিহুত, গোরখপুর জয় করেন এবং বারাণসী পর্যন্ত রাজ্য সীমা বিস্তৃত করেন।১৩৫২ সালে ফখরউদ্দিনের পুত্রকে পরাজিত করে সোনারগাঁও স্বীয় সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। এ সময় দিল্লীর সুলতান ফিরোজ তুঘলক বঙ্গ আক্রমণ করলে তিনি একডালা দূর্গে আশ্রয় নেন। বাইশ দিন অবরোধ করার পরও ইহা দখল করতে পারেন নাই (একডালার চারদিকে জল বেষ্টিত ছিল)। তাকে শাহ-ই-বাঙ্গালা উপাধি দেয়া হয়। তার রাজত্বকালেই বাঙ্গালীরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।এবং তার আমল থেকে সমগ্র বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চল ‘বাঙ্গালাহ’ নামে পরিচিত হয়ে উঠে।
৪২. সিকান্দার শাহ (১৩৫৮-১৩৯৩): ইলিয়াস শাহের পুত্র। ১৩৯৩ সালে তার বিদ্রোহী পুত্র গিয়াসউদ্দিন আযমের সাথে এক যুদ্ধে তিনি নিহত হলেন।
৪৩. গিয়াস উদ্দিন আযম শাহ (১৩৯৩-১৪০৯): তার রাজত্বকালেই সগীর ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্য রচনা করেন। তিনি ১৪০৯ সালে রাজা গণেশের চক্রান্তে নিহত হয়। তার মৃত্যুর পর তার পুত্র সাইফ উদ্দিন হামজা সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি ২ বছর রাজত্ব করেন। তার মৃত্যুর পর তার পুত্র বায়েজিদ শাহ সিংহাসনে বসেন। ১৪১৪ সালে একজন হিন্দু জমিদার (গণেশ নামে) কর্তৃক পদচ্যুত হন।তিনি কবি হাফিজকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলেন।
৪৪. রাজা গণেশ ও তার উত্তরাধকারীগণ (১৪১৪-৪২): রাজা গণেশ হিন্দু ছিলেন। তার ছেলে যদু মুসলিম হন এবং জালাল উদ্দিন শাহ (১৪১৮-৩১) নাম ধারণ করেন। তার মৃত্যুর পর তার পুত্র শামসউদ্দিন আহম্মদ শাহ বাংলার সিংহাসনে বসেন। ১৪৪১ সালে তিনি নিহত হলে গণেশ বংশের বিলুপ্তি ঘটে। কবি কৃত্তিবাস ওঝা রাজা গণেশের সভাকবি ছিলেন।তিনি রামায়ণ অনুবাদ করেন।
৪৫. ইলিয়াস শাহী বংশের পুনরুদ্ধার (১৪৪২-৮৬): আহম্মদ শাহের মৃত্যুর পর আমীরগণ ইলিয়াস শাহের পৌত্র নাসির ইদ্দিনকে ‘নাসির উদ্দিন আবুল মুজাফ্‌ফর মাহমুদ শাহ’ উপাধি দিয়ে সিংহাসনে বসান। খান জাহান আলী (বাঘের হাট) এ সময়ের।
৪৬. রুকুন উদ্দিন বরবক শাহ (১৪৫৯-৭৪): নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহের মৃত্যুর পত্তার পুত্র রুকুন উদ্দিন বরবক শাহ বাংলার সিংহাসনে বসেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় মালাধর বসু ‘শ্রীকৃষ্ণ বিজয়’ লেখেন। বরবক শাহ তাকে গুণরাজ উপাধি দেন।
৪৭. ২য় শামসউদ্দিন ইউসুফ শাহ (১৪৭৪-৮১): বরবক শাহের পুত্র। তার সময়ে বিজয় পন্ডিত ‘মহাভারত’ এর অনুবাদ করেন।
৪৮. শামসউদ্দিনের মৃত্যুর পর তার পুত্র ২য় সিকান্দার শাহ ক্ষমতায় বসেন। কিন্তু তার অকর্মণ্যতার জন্য তাকে পদচ্যুত করে নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহের অপর একপুত্র জালাল উদ্দিন ফতেহ শাহকে (১৪৮১-৮৭) সিংহাসনে বসান। তিনি ১৪৮৭ সালে হাবসী কৃতদাস বরবক শাহ কর্তৃক নিহত হন এবং ইলিয়াস শাহ বংশের অবসান হয়।
৪৯. হাবশী রাজন্যবর্গ (১৪৮৭-৯৩) : ১৪৮৭ সালে বরবক শাহ সুলতান শাহজাদা নাম ধারণ করে ক্ষমতায় বসেন। কিন্তু ৩ মাস পর ইদিল খান তাকে নিহত করে ‘সাইফ উদ্দিন ফিরোজ’ খেতাব গ্রহণ করে সিংহাসনে বসেন। ১৪৮৯ সালে তার মৃত্যু হলে ২য় নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহ ক্ষমতায় বসেন। ১৪৯০ সালে সিদি বদর তাকে বিতাড়িত করে শামস উদ্দিন আবু মুজাফফর শাহ খেতাব গ্রহণ করেন। ১৪৯৩ সালে আলাউদ্দিন হুসাইন শাহ তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন এবং গৌড় অবরুদ্ধ করেন। এই অবরুদ্ধ থাকাকালে তিনি মারা যান।
৫০. হুসাইন শাহী বংশ (১৪৯৩-১৫৩৮) : হাবসী বংশ পতনের পর উমরাহগণ আলা উদ্দিন হুসাইন শাহকে (১৪৯৩-১৫১৯) গৌড়ের সিংহাসনে বসান। তিনি পান্ডুয়া হতে ২৩ মাইল উত্তর-পূর্বে একডালায় রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। তার শাসনামলে ত্রিপুরার অংশ বিশেষ, চট্টগ্রাম, আরাকান, উড়িষ্যা ও বিহারের কিয়দাংশে রাজ্য বিস্তার হয়।তার ধর্মীয় উদারতার ফলে শ্রীচৈতন্য তার ধর্মপ্রচারে সর্ববিধ সহায়তা লাভ করেন।তাকে নৃপতি-তিলক ও ‘জগত-ভূষণ’ উপাধি দান করা হয়। তিনি মালাধর বসু, বিজয় গুপ্ত, বিপ্রদাস, যশোরজ খান প্রমুখের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার আমলে বরিশালের বিজয় গুপ্ত বাংলায় পদ্মপুরাণ অনুবাদ করেন। হুসাইন শাহ ‘ছোট সোনা মসজিদ’ নির্মাণ করেন।
৫১. নুসরৎ শাহ (১৫১৯-৩২): হুসেন শাহের পুত্র। তিনি গৌড়ের বিখ্যাত বড় সোনা ও কদম রসূল মসজিদ নির্মাণ করেন। তার উপনাম ছুটি খান।
৫২. নুসরৎ শাহের মৃত্যুর পর তার পুত্র আলা উদ্দিন ফিরোজ শাহ সিংহাসনে বসেন কিন্তু ৩মাস পর তার চাচা গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ শাহ তাকে সিংহাসনচ্যুত করেন। ১৫৩৮ সালে তাকে শেরখান শূর বিতাড়িত করেন এবং গৌড় অধিকার করেন।

মোগল আমল (১৫২৬-১৭০৭), বাদশাহী আমল
৫৩. পানিপথের প্রথম যুদ্ধে (১৫২৬) সুলতান ইব্রাহিম লোদীর পরাজয়ের মধ্যদিয়ে সুলতানী আমলের (১২০৬-১৫২৬) অবসান ঘটে। এবং বাবর দিল্লীর মসনদ দখল করেন। পানিপথ দিল্লীর অদূরে অবস্থিত।
৫৪. জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর (১৫২৬-৩০): এরা তাতর জাতির মোঙ্গল শাখা থেকে উদ্ভূত। ভারতের মুঘল সম্রাটগণ চেঙ্গিস খানের (আসল নাম তেমুজিন) ২য় পুত্র চাগতাই খানের প্রত্যেক্ষ বংশধর। বাবরের পিতা চাগতাই তুর্ক এবং মাতা মোঙ্গল ইউনুস খানের বংশধর (কন্যা)। বাবর ১৪৮৩ সাওে ফরগনা রাজ্যের রাজধানী আন্দিজানে জন্মগ্রহণ করেন। এই রাজ্যটি আধুনিক পারস্য ও তুর্কীস্থানের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। বাবর নিজেকে তুর্ক হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মোঙ্গল বা মুঘল ছিলেন না। বরং মুঘলদের সম্পর্কে অত্যন্ত ঘৃণাব্যঞ্জক উক্তি করেছেণ। ভারতের জনগণ আফগান ব্যতীত সকল মুসলমান আক্রমণকারীকেই মুঘল বলত। এইভাবে মুঘল নামের উৎপত্তি।
৫৫. হুমায়ুন (১৫৩০-৪০): বাবরের পুত্র। হুমায়ুন ১৫৩৯ সালে চৌসারের যুদ্ধে এবং ১৫৪০ সালে কনৌজের কাছে যুদ্ধে শেরশাহের কাছে পরাজিত হয়ে সিংহাসন হারান। পারস্য সৈন্যদের সহায়তায় তিনি ১৫৪৫ সালে কাবুল ও কান্দাহার অধিকার করেন। ১৫৫৫ সালে সিকান্দার শাহকে পরাজিত করে সিংহাসন দখল করেন। তিনি বাংলার নাম দেন জান্নাতাবাদ।
৫৬. শেরশাহ: জন্ম ১৪৭২ সালে। ১৫৪০ সালে হুমায়ুনকে পরাজিত করে দিল্লীর মসনদে আরোহন করেন।এবং বঙ্গ, বিহার, জৌনপুর, দিল্লী ও আগ্রার অধিপতি হন। ১৫৪৫ সালে বারুদের বিস্ফোরণে তিনি মারা যান। তিনি গ্রান্ডট্রাঙ্ক রোড নির্মাণ করেন (১৫শত মাইল) এবং ইহার শেরশাহী নাম সড়ক-ই-আজম।ইহা সোনরগাঁও থেকে সিন্ধুদেশ পর্যন্ত চলে গেছে।তিনি ঘোড়ার ডাকের ব্যবস্থা করেন।
৫৭. শেরশাহের মৃত্যুর পরতার পুত্র জালাল খান ‘ইসলাম শাহ’ নাম ধারণ করে সিংহাসনে বসেন। তিনি ৯ বছর রাজত্ব করেন। তারপর তারপুত্র ফিরোজ সিংহাসনে বসেন। কিন্তু পিতৃব্য মুহম্মদ আদিল শাহ তাকে হত্যা করে সিংহাসনে বসেন। ইব্রাহিম নামে একজন আমীর বিদ্রোহী হয়ে ক্ষমতা দখল করেন। সিকান্দার শাহ নামে অন্য একজন আমীর তাকে তাড়িয়ে ক্ষমতা দখল করেন। পরবর্তীতে এই সিকান্দার শাহকে পরাজিত করে হুমায়ুন সিংহাসন দখল করেন।
৫৮. আকবর (১৫৫৬-১৬০৫): পিতার মৃত্যুর পর আকবর সিংহাসনে আরোহণ করেন। ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে আরোহণ কালে তার বয়স ছিল ১৩ বছর। সেজন্য পিতৃবন্ধু বৈরাম খান তার প্রতিনিধি নিযুক্ত হন। হুমায়ুন মৃত্যুর পূর্বে কেবল পাঞ্জাব, দিল্লী ও আগ্রা পুনরুদ্ধার করতে পেরেছিলেন। ১৫৫৬ সালে পানি পথের ২য় যুদ্ধে আদিল শাহ’র সেনাপতি হিমুর সহিত আকবরের সেনাবাহিনীর যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে হিমু নিহত হন। আকবর/বৈরাম খাঁন তাকে হত্যা করেন। অন্তপুরের ষড়যন্ত্রের কারণে এবং বৈরাম খানের কিছু কার্যকলাপের কারণে আকবর ও বৈরাম খানের সাথে সম্পর্কেও চিড় ধরে এবং তাকে ১৫৬১ সালে হজ্বে প্রেরণ করেন। পথে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পরও ২ বছর আকবর স্বাধীন ভাবে শাসন করতে পারেননি। এ সময় তার ধাত্রীমাতা পুত্র আদম খান ও অন্যান্য দ্বারা প্রভাবিত ছিল। আদম খানের ঐদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে ১৫৬২ সালে আকবর তাকে হত্যার নির্দেশ দেন।
৫৯. সম্রাট আকবরের সময় সমগ্র বঙ্গদেশ সুবহ-ই-বঙ্গালহ নামে পরিচিত ছিল। তিনি বাংলা নববর্ষ ‘ পহেলা বৈশাখ’ চালু করে ছিলেন।তিনি বাংলা সনের প্রর্বতন করেছিলেন তোডারমল (১৫৫৬ সাল)।
৬০. সম্রাট আকবরের সভাসদ বিখ্যাত ঐতিহাসিক আবুল ফজল তার আইন-ই-আকবরী গ্রনে’ সর্বপ্রথম দেশ বাচক ‘বাংলা’ শব্দ ব্যবহার করেন। তার মতে চট্টগ্রাম থেকে গর্হি (রাজমহল) পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল প্রাচীন বঙ্গ।
৬১. ১৫৬৪ সালে বঙ্গদেশে কররানী বংশের রাজত্ব শুরু হয়। তাজখানের মৃত্যুর পর সুলায়মান কররানী বঙ্গের সিংহাসনে বসেন। তার মৃত্যুর পর পুত্র বায়েজিদ গৌড় অধিপতি হন। তার মৃত্যুর পর পুত্র দাউদ খান বঙ্গের সিংহাসনে বসেন ১৫৭৩ সালে। (মুসা খান, ঈসা খা এ সময় ১৫৭৬ সালে বারজন স্থানীয় জমিদার ছিলেন। এরা বার ভূঁইয়া নামে পরিচিত ছিলেন।)
৬২. দাউদ খানের সময় আকবর বঙ্গ আক্রমণ করেন। ১৬০৫ সালে মারা গেলে সেকেন্দ্রায় তার তৈরি সমাধিক্ষেত্রে সমাহিত করা হয়।আবুল ফজল ছিলেন তার বিশিষ্ট বন্ধু ও পরামর্শদাতা। হিন্দী ‘রামায়ণ’ রচয়িতা ও হিন্দী কবি তুলসী দাস এ সময় জন্ম গ্রহণ করেছিল। নিজাম উদ্দিন আহমদ ‘তাবাকাত-ই-আকবরী’ রচনা করেন।
৬৩. জাহাঙ্গীর (১৬০৫-২৭): ১৬০৫ সালে আকবর পুত্র সেলিম আগ্রায় ‘নূর উদ্দিন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর বাদশাহ গাজী’ উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে বসেন।
৬৪. শাহজাহান (১৬২৮-৫৮)খুররম: আর্জমান্দ বানু বেগম বা মমতাজ মহলকে ১৬১২ সালে বিবাহ করেন।আসফ খানের মেয়ে। নূর জাহান তার ফুফু এবং উভয়ে খুবই সুন্দরী ছিলেন।
৬৫. আরঙ্গজেব (১৬৫৮-১৭০৭) আলমগীর: শাহজানের তৃতীয় পুত্র। তিনি রাজকোষ হতে নিজের জন্য ব্যয় করতেন না। কুরআন শরীফ নকল করে ও টুপি সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
৬৬. বাহাদুর শাহ (১৭০৭-১৭১২): আরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর তার জেষ্ঠ পুত্র শাহ আলম (মুয়াজ্জম) অন্যান্য ভ্রাতাকে পরাজিত করে বাহাদুর শাহ নাম ধারণ করে সিংহাসনে বসেন।তার মৃত্যুও পর তার পুত্র জাহান্দও শাহ সম্রাট হন। এক বছর পর তিনি নিহত হলে বাহাদুর শাহের এক পৌত্র ফররুখ শিয়ার (১৭১৩-১৭১৯) সিংহাসনে আরোহণ করেন।
৬৭. মুহম্মদ শাহ (১৭১৯-১৭৪৮): বাহাদুর শাহের পুত্র। তার মৃত্যুর পর আহম্মদ শাহ, ২য় আলমগীর, শাহ আলম (১৭৬১ সালে শাসন কর্তা ছিলেন) প্রমুখ দুর্বল শাসক ছিলেন। সিপাহী বিদ্রোহের সময় ১৮৫৭ সালে বিদ্রোহীরা ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের সম্রাট ঘোষনা করেন। বিদ্রোহে যোগদানের কারণে ইংরেজ সরকার তাকে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করেন। ১৮৬২ সালে সেখানে তার মৃত্যু হয় এবং মুঘল বংশের অবসান হয়। ২য় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে সমাধিস্থ করা হয়।
৬৮. ১৭৩৯ সালে পারস্যের নাদির শাহ ভারত আক্রমণ করেন। তিনি মুঘল সম্রাটকে পরাজিত করেন এবং দিল্লী হতে প্রচুর ধন সম্পদ এবং শাহজাহান নির্মিত ময়ূর সিংহাসন ও কোহিনূর মনি সঙ্গে নিয়ে যান।
৬৯. ১৭৬১ সালে আহম্মদ শাহ আবদালীর সাথে মারাঠাদের পানি পথের তৃতীয় যুদ্ধ হয়।
৭০. কোন মোগল সম্রাট জিজিয়া কর রহিত করেন – আকবর
৭১. আবুল ফজল রচিত গ্রন’ ‘আইন-ই-আকবরী এবং ‘আকবর নামা’।
৭২. কোন সুবাদার চট্টগ্রাম দখল করে এর নাম দেন ইসলামাবাদ – শায়েস্তা খান
৭৩. বাংলার রাজধানী সোনারগাঁও এর পত্তন করেন ঈসাখাঁ। ঈসাখাঁর দ্বিতীয় রাজধানী ছিল জঙ্গল বাড়িতে। কোন মোগল সম্রাট এর ১২ ভূইয়ার অভ্যুত্থান ঘটে – আকবর
৭৪. কলকাতার নাম আলীনগর রাখেন – নবাব সিরাজউদ্দোলা
৭৫. আলীবর্দি খানের পূর্ব নাম কি – মির্জা মুহাম্মদ আলী
৭৬. সোনারগাঁও মোঘল আমলে বাংলাদেশের রাজধানী চিল।

বাংলার নবাবগণ
১. ১৬৫১ সালে বঙ্গের সুবাদার ছিলেন সুলতান সুজা।তিনি চকবাজারে অবস্থি’ত বড় কাটরা নির্মাণের আদেশ দেন।
২. ১৬৬১ সালে মীর জুমলার বঙ্গের শাসনকর্তা ছিলেন।
৩. মীর জুমলার মৃত্যুর পর ১৬৬৩ সালে আরঙ্গজেব কর্তৃক বাংলার শাসনকর্তা নিযুক্ত হন শায়েস্তা খান (আরঙ্গজেবের মামা)। ১৬৭২ সালে বাংলার গর্ভনর ছিলেন শায়েস্তা খান (পুরো নাম মির্জা আবু তালিব)। তিনি লালবাগের কেল্লা নির্মাণ করেন । লালবাগের কেল্লার পূর্ব নাম কিল্লা আওরঙ্গবাদ। তার সময়ে টাকায় আটমণ চাল পাওয়া যেত। ঢাকার মোহাম্মদপুরে সাত গম্বুজ মসজিদ নির্মাণ করেন।তিনি ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটরা নির্মাণ করেন।
৪. লালবাগ দুর্গ কত সালে নির্মিত- ১৬৭৮ সালে মুগল সম্রাট আরঙ্গজেবের পুত্র বাংলার সুবাদার শাহজাদা মোঃ আজম নিমাণ করেন।
৫. নবাব সুবেদার শায়েস্তা খানের কন্যার নাম পরিবিবি এবং আসল নাম ইরান দুখত।
৬. আরঙ্গজেবের সময়ে মুর্শিদ কুলী খান (১৭০৫-২৭) বঙ্গ দেশের শাসনকর্তা (সুবাদার) ছিলেন। আরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীন হন এবং নতুন নবাব বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। তার মৃত্যুর পর তার জামাতা সুজা উদ্দিন খান (১৭২৭-৩৯) বঙ্গ, উড়িষ্যার নবাব হন। এর পর তার পুত্র সরফাজ খান (১৭৩৯-৪০)। কিন্তু তার দুর্বলতার সুযোগে বিহারের শাসনকর্তা আলীবর্দী খান (১৭৪০-৫৬, প্রকৃত নাম মীর্জা মুহম্মদ আলী) তাকে সিংহাসনচ্যুত করেন এবং বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব হন। তার পর সিরাজ উদ্দৌলা মসনদে বসেন।
৭. নবাব সিরাজদ্দোলার প্রকৃত নাম মির্জা মুহম্মদ। তার পিতার নাম জয়েন উদ্দিন মাতার নাম আমেনা।
৮. নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁ বাংলার রাজধানী ঢাকা ধেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তরিত করেন।এই সুবাদারের সময় থেকে বাংলার নবাবী শাসন শুরু হয়।
৯. হলওয়েল মনুমেন্ট কি – সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ইংরেজ নির্মিত মনুমেন্ট
১০. পলাশীর প্রান্তর মুর্শিদাবাদ জেলার ভাগিরথী নদীর তীরে।