Porasuna | Blog community for Educational Content

JobsNews24

The Most Popular Job Site in Bangladesh

স্বপ্নের সিঁড়ির চূড়ায় : শূন্য (০) থেকে শুরু

Category: BCS Section Posting Date: 2016-12-23


মানবজীবন কতই না বিচিত্র, কতই না স্বপ্নময়ী। বিধাতার এই তো লীলা, কখন যে এর শুরু তা কেউ ভাবতেই পারেনা। হ্যাঁ, যেমন টা ঘটেছে আমার জীবনে। আমি যখন অনার্সে পড়াশোনা করি তখনো পর্যন্ত খুব বড় কোন স্বপ্ন ছিলনা, ছিলনা জীবনের কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্য। কোনভাবে জীবনের মূল্যবান অধ্যায় টুকু
অতিক্রম করছি। কখনও ভাবনাতেই আসেনি আমি বিসিএস ক্যাডার হব। আরে হবে কি করে ? আমার কি সেই যোগ্যতা আছে। আমার সামনে তো অনেক বাঁধা : আমি যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আমার তো তেমন মামা খালু নেই, আমার তো কোন কোটা নেই !!
আমি কি এত বড় স্বপ্ন দেখতে পারি ?
চাকরি জন্য কি পড়তে হয় সেটায় তো জানিনা ?

তাই স্বাভাবিক নিয়মেই জীবনের নৌকা বেয়ে চলছি।
কিন্তু আনন্দ মোহন কলেজ থেকে যখন অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করলাম, তখন কেন জানি জীবনে স্বপ্নের উকিঝুকি দিতে লাগলো। মনে হলো আমার কিছু একটা করার দরকার। চাকরির প্রিপারেশন নেওয়া দরকার। কিন্তু নিব কিভাবে আমার কিছুই জানা নেই, কিভাবে পড়তে হবে, কি পড়তে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার যখন শুরু করলাম তখন দেখি বন্ধুরা তো অনেক এগিয়ে। অনেকেই সাধারন বিষয়ে প্রায় অসাধারণ প্রতিভা দেখাচ্ছে, আর আমি ! মনে হয় প্রিয় বাংলাদেশের রাজধানী ছাড়া অন্য কোন দেশের রাজধানীর নাম বলতেই ভূল করব।

যাই হোক তাই মনের কষ্টে স্মৃতিময় আনন্দ মোহন কলেজ ছেড়ে পাড়ি জমায় রাজধানী ঢাকা শহরে ভাল কিছুর আশায়। সেই সুবাদে ঢাকা কলেজ থেকে কীটতত্ত্ব বিষয়ে মাষ্টার্স করি।যদিও খুব বেশি ক্লাস করিনি। কেননা আমার একমাত্র লক্ষ্য শুধু চাকরির পড়াশোনা করা। তাই একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয় । উল্লেখ যে এই কোচিং সেন্টারের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ কেননা আমাকে যে সাহস শক্তি যোগান দিয়েছে তাতে আমি মুগ্ধ। সেই সাহস নিয়েই এগিয়ে চলেছি দুরন্ত গতিতে। কষ্ট করেছি গাঁধার মত। যার প্রথম ফলাফল পায় ৩৩ তম বিসিএস প্রিলি পাস করে। এটা ছিল আমার প্রথম বিসিএস, তাছাড়া সময় পেয়েছিলাম মাত্র ৪ মাস। তারপর আল্লাহর রহমতে লিখিত ও ভাইভা তেও উত্তীর্ন হয় যদিও নন- ক্যাডারের তকমা। কিন্তু হতাশ না হয়ে আবারো জীবনযুদ্ধে নেমে পড়ি। কেননা প্রত্যাশা যে আরও বেড়ে গেল মনে হল হয়তো বিধাতা আমার জন্য আরও ভাল কিছু রেখেছে। তাই ৩৪ তম বিসিএসে নিজেকে একরকম কারাগারে প্রেরন করে নিজের সর্বোচ্চ মেধা ঢেলে দিতে চেষ্টা করি। আর তাতেই আল্লাহর রহমতে ৩৪ বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পায়।

যার আমলনামা নিয়ে দেখি বিধাতা আমার চেষ্টার প্রতিফলন দিয়েছেন। যদিও ইংরেজি প্রথম পত্রের নাম্বার নিজের কাছেই বিশ্বাস হচ্ছে না। যাক সবই বিধাতার লীলা। আমার হাতে তো কিছুই করার নেই।তাছাড়া বিধাতা যা দিয়েছেন তা তো আমার স্বপ্নের সর্বোচ্চ চূড়া। এর চেয়ে বড় আর কি আছে?

শেষকথা সবার প্রতি অনুরোধ সফলতার জন্য চেষ্টা করুন নিজের সর্বোচ্চ টুকু দিয়ে। নিশ্চয় বিধাতা বিমুখ করবে না। মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন দুর্নীতির কথা, কোটার কথা, ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়ার কষ্টের কথা, খুব মেধাবী না হওয়ার কষ্টের কথা ইত্যাদি। কারন সফলতার শেষকথা সর্বোচ্চ চেষ্টা।

আমার এই লেখা যদি একটি মানুষের জন্যও উপকারে আসে তবেই স্বার্থক হবে আমার এই ক্ষুদ্র অনুপ্রেরণা মুলক কথাগুলো।

সবাই ভাল থাকবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আমি সারাটাজীবন দেশের জন্য কিছু করার জন্য চেষ্টা করতে পারি। আমিন

ধন্যবাদান্তে,
ওয়াহিদুজ্জামান
বিসিএস (প্রশাসন)
সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট