Porasuna | Blog community for Educational Content

JobsNews24

The Most Popular Job Site in Bangladesh

৩৬ এর ভাইভার জন্য প্রস্তুতি

Category: BCS Section Posting Date: 2017-02-24


৩৬ এর লিখিত পরীক্ষার ফলাফল দেওয়ার পরেই যদি আপনি বুঝে গিয়ে থাকেন আপনি পিএসসিতে আমন্ত্রিত তাহলে আপনার জন্য ছোট্ট একটু করে অভিনন্দন। ছোট্ট কারণ বড়টা বড় কাজ হয়ে যাওয়ার পরে দিবো। লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেই আপনি হয় আকাশে উড়তে পারেন অথবা ভাবতে পারেন “এহহে আবার পড়ালেখা...”। দ্বিতীয়টি ভাবাই বেশি উত্তম কারণ প্রথমটিতে আকাশ থেকে মাটিতে নেমে যাওয়ার ভয় থাকে। পাশ করা প্রতিটি পরীক্ষার্থীই এখন নিজেকে হবু ক্যাডার বলে দাবী করতেই পারেন, আশপাশের মানুষজনও বলবে “আরে ক্যাডার তো হয়েই গেলে/গেলেন”। এই ডোজ বেশি খাবেন না। এখনো বহু পথ বাকি। ভাইভা কিন্তু ২০০ নম্বরের।

ভাইভার জন্য প্রস্তুতি মূলত দুই রকমঃ ১। মানসিক এবং বাহ্যিক ২। পড়ালেখা সংক্রান্ত
ভাইভার ক্ষেত্রে আপনার বাহ্যিক উপস্থাপন এবং মানসিক শক্তিটাই মূলত প্রভাব বিস্তারকারী নির্ণায়ক হিসেবে কাজ করে।

মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয় একজন সম্ভাব্য সিভিল সার্ভিস ক্যাডার এর বাস্তব ক্ষেত্রে তার অর্জিত জ্ঞান ও গুণাবলীর প্রয়োগ ক্ষমতা যাচাই করার জন্য। একজন মেধাবী শিক্ষার্থী যে কিনা লিখিত পরীক্ষায় হেসেখেলে ৬০% নম্বর পায় কিন্তু ভাইভা বোর্ডে জড়তার কারনে চোখ তুলে পরীক্ষকের দিকে তাকাতে পারে না বা বাস্তবতা এবং যুক্তি বহির্ভূত কোনও উত্তর দেয় বা আচরণ করে তবে তার ক্যাডার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে আসে(এদের অনেকেরই বোর্ড এর বাইরে এসে মনে হয় “আমি কিভাবে এমন বোকার মত উত্তর দিতে পারলাম, এর সঠিক উত্তর তো আমি জানি!!”) কিছু আবার বাইরে এসে অভিযোগ করতে থাকে যে বোর্ড মোটেই helpful ছিল না।।বোর্ড helpful থাকাটাই অস্বাভাবিক। খারাপ লাগলেও এটাই সত্যি যে ভাইভা দেওয়া পরীক্ষার্থীদের মাঝে দুই তৃতীয়াংশ কোনও ক্যাডার পাবে না। অর্থাৎ বেশিরভাগেরই তীরে এসে তরী ডুববে। এটাই নিয়ম এবং এটা সিস্টেম এর কোনও দোষ নয়। বোর্ড চাইবে আপনাকে বাদ দিতে কিন্তু আপনি আপনার যোগ্যতা প্রদর্শন করেই টিকে যাবেন। ভাইভা বোর্ডে একজন প্রার্থীর মধ্যে যে বিষয়গুলোর উপস্থিতি চাকরিদাতারা বিশেষভাবে দেখতে চায়, সেগুলো হচ্ছে- উপস্থিত বুদ্ধি, মানসিক গুণাবলী, সাধারণ প্রবণতা, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষমতা, ভদ্রতা, নম্রতা তথা সংযত অভিব্যক্তি, দুঃসাহসিক সক্রিয়তা, অনুভূতিপ্রবণতা, বিশ্বাসপরায়ণতা, ইতিবাচক মানসিকতা, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা, সরলতা ও রক্ষণশীলতা, আত্ননির্ভরশীলতা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, স্নায়বিক উত্তেজনা, সংযম, সামাজিকতা, প্রভাবিত করার ক্ষমতা, বন্ধুত্বপরায়ণতা, চিন্তাশীলতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ইত্যাদি।

কি করবেন?

* ভাইভা তে ভান ধরবেন না। আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করে কেন আসতে চান তাহলে গৎবাঁধা বুলি আওড়াবেন না। আপনি আসলেই কেন বিসিএসে আসতে চান সেটা বলবেন। আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো, আমি বলেছিলাম দুটো কারণ, একটা Passionate reason আরেকটা Practical reason। জিজ্ঞেস করলো কেমন? বললাম Passionate reason হলো আমার বাবাও প্রশাসনের কর্মকর্তা...আমার খুব ইচ্ছা বাবার সাথে একই সার্ভিসে চাকরি করবো। আর Practical Reason হলো জব সিকিউরিটি।

* কনফিডেন্ট থাকবেন কিন্তু বাচাল হবেন না। আপনার পরীক্ষা যারা নিবেন তারা জ্ঞানে এবং অভিজ্ঞতায় আপনার চাইতে এগিয়ে। কাজেই তাদের সাথে খেলবেন না। যেটা জানেন না সেটা বাংলায় বলবেন দুঃখিত স্যার এই মুহূর্তে মনে আসছেনা বা ইংরেজিতে Sorry Sir, I cannot remember right now বলবেন।

* পোশাক-পরিচ্ছদে মার্জিত হবেন। চুলের স্টাইল যেনো উগ্র না হয়। দাড়ি ক্লিন শেভ করবেন। সাদা শার্ট কালো/নেভি ব্লু প্যান্ট এবং কালো শু নিরাপদ পোশাক। মেয়েদের জন্য যেকোন হালকা রঙয়ের শাড়ি। যারা পাঞ্জাবি পড়েন তারা অতি অবশ্যই পাঞ্জাবি ইস্ত্রী করে নিবেন।

* ভাইভার আগ পর্যন্ত রাত জাগা বন্ধ করুন। হালকা ব্যায়াম করুন। আশপাশের মানুষের সাথে যথাসম্ভব নমনীয় ব্যবহার করুন। যাদের রাগ বেশি দয়া করে রাগ পরিহার করুন। আপনি বিশ্বাসী হলে ধর্মীয় রীতি মেনে চলুন।

* প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট আয়নার সামনে কোন বিষয় নিয়ে কথা বলার অনুশীলন করুন। এতে ভাইভা ভীতি কমবে। বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করুন। ভাইভা বোর্ড বাংলায় প্রশ্ন করলে বাংলায় এবং ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে ইংরেজিতে উত্তর দিন।

পড়ালেখা কী করবেন?

* আপনার অধীত বিষয়ের উপর ভালোভাবে জ্ঞান অর্জন করে যান। একদম সিলেবাস ধরে পড়বেন। আপনার ভাগ্য খুব ভালো হলে আপনার পঠিত বিষয় নিয়ে ধরবে না আপনাকে :Dআমাকে ইংরেজি থেকে কিছুই জিজ্ঞেস করেনি।

* একটা খাতা বানান আলাদা। লিখিত এর সব জিনিসপত্র সরিয়ে রেখে একদম গোছানো টেবিলে নতুন করে বসুন। প্রত্যেক দিনের সংবাদপত্রের বাংলা এবং ইংরেজি কপি সংগ্রহ করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ুন। জরুরি বিষয়গুলো নোট নিন। আন্তর্জাতিক ঘটনার জন্য বেশিক্ষণ পড়তে বিরক্ত লাগলে ইউটিউবের সাহায্য নিন। টিভির সংবাদ শুনুন প্রতিদিন।

* আপনার নাম, আপনার নামের অর্থ, বাবার নাম, চয়েস লিস্ট, নিজের জন্মস্থান, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, আপনার নামের সাথে মিল আছে এমন বিখ্যাত ব্যক্তিদের নাম ও কর্মজীবন ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারনা নিন।

* মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, সরকারের উন্নয়নের রূপরেখা, সরকারের সাফল্য একদম নখদর্পনে রাখতে হবে। সব যে জিজ্ঞেস করবে তা না তবে পড়লে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। 
* সমসাময়িক ঘটনা, সমস্যা কিংবা ইস্যুতে আপনার অভিমত, আপনার গঠনশীল মতামত লিখে রাখুন।

* প্রথম ও দ্বিতীয় চয়েস সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে যান। কেন প্রথম চয়েস এটার উত্তরে দয়া করে মুখস্ত বুলি আওড়াবেন না। মন থেকে উত্তর দিবেন।

সবার জন্যই শুভকামনা। আশা করছি অনেককেই সহকর্মী হিসেবে পাবো এই গ্রুপ থেকে।

-আরাফাত মোহাম্মদ নোমান
শিক্ষক, ইংরেজি বিভাগ, ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৩৫তম বিসিএস ক্যাডার (প্রশাসনে সুপারিশপ্রাপ্ত)